পারসোনাল

ওয়েবসাইট তৈরির অ আ ক খ

সময় যতো যাচ্ছে মানুষ ততোই অনলাইনের উপর আস্থাশীল হয়ে পড়ছে। হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে সব কিছু করতে পারবে। আর তাই অনলাইনের উপর চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে আপনি চাকরি করতে পারছেন বাংলাদেশে থেকেই। এক সময় এরকম ব্যাপার চিন্তাই করতো না মানুষ। প্রযুক্তির কল্যাণে এটা সম্ভব হচ্ছে। আর এই প্রযুক্তি মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন। এখন অনেক কোম্পানীই তাদের কার্যক্রম গ্লোবালি করে থাকে অনলাইন পদ্ধতিতে। ইন্ট্রিগ্রেটেড সফটওয়্যার ইউজ করে তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের সাথে। আর এই ওয়েবসাইটের সাথে সফটওয়্যার যুক্ত থাকায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বসেই আপনি ঐ অফিসের যাবতীয় কাজ করতে পারছেন।

যাই হোক, আমরা মূল কথায় ফিরে আসি। অনলাইন এখন একটি জনপ্রিয় ও প্রয়োজনীয় মাধ্যম। আমার এক বন্ধু আছে, যে সারাদিন না খেয়ে অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তাকে যদি বলা হয়, আজ সারাদিন তোমাকে অনলাইন থেকে দূরে রাখা হবে তাহলে সে বলবে, সম্ভব না। এতোটাই উতোপ্রোতভাবে জড়িত অনলাইন আমাদের জীবনের সাথে। অনলাইনের মূল মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট।
আজ হতে ৪/৫ বছর আগের এক সমীক্ষায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রতিদিন পৃথিবীতে দুই মিলিয়ন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। চিন্তা করুন এবার ব্যাপারটা। কারা তৈরি করছে এসব ওয়েবসাইট? কারা আবার? আপনার আমার মতো মানুষই। তাই চাইলে আপনিও হতে পারেন একজন সফল ওয়েব ডিজাইনার কিংবা ডেভেলপার বা দুটোই।

ওয়েব ডিজাইনার কাকে বলে?

এক কথায় বলা যায়, যিনি ওয়েবসাইট ডিজাইন করেন তাকেই ওয়েব ডিজাইনার বলে। বিস্তারিত বলার আগে বলে নিই, ওয়েব ডিজাইনার এবং ওয়েব ডেভেলপারের মধ্যে পার্থক্য কী?
একটি ছোট্ট উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা কিয়ার করে বলা যায়। ইয়াহু ওয়েবসাইটটি অনেকেই দেখেছেন, নিদেনপক্ষে নামও শুনেছেন। যারা দেখেছেন তাদেরকে বলছি- আপনি যখন http://www.yahoo.com লিখে ইয়াহুতে ঢুকেন তখন আপনি যা দেখতে পান তা-ই হচ্ছে ডিজাইন। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটের বাহ্যিক দিকটিই হচ্ছে ডিজাইন। ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন দেখাচ্ছে তাই ডিজাইন। আর আপনি ইয়াহুতে লগইন করেন যে পদ্ধতিতে ওটা হচ্ছে ডেভলপমেন্টের অংশ। সংক্ষেপে ডেভলপমেন্টকে বলা যায়, প্রোগ্রামিং।
আজ আমরা ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে জানবো।

কীভাবে ওয়েব ডিজাইনার হবেন?

যদি মনে করেন আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার হবেন তাহলে প্রথমেই আপনার যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, আপনার চমৎকার একটি সদিচ্ছা । থাকতে হবে ধৈর্য্য। ধৈর্য্যহীন হয়ে কেউ কোনো ডিজাইনের কাজ করতে পারে না। সুতরাং সদিচ্ছার সাথে মনোযোগসহ কাজ করলেই আপনি ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন। আপনার ভেতর যদি থাকে সৃষ্টিশিলতা, আপনি যদি নান্দনিকতা পছন্দ করেন কিংবা স্বপ্নীল ভুবনে উড়ে বেড়াতে ভালোবাসেন তাহলে আপনার জন্য ওয়েব ডিজাইনার হওয়া খুবই সহজ ব্যাপার।

কী করতে হবে আপনাকে?

নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রোগ্রাম/এপ্লিকেশন শিখতে হবে আপনাকে। প্রোগ্রামিং সম্পর্কে হালকা ধারণা নিতে হবে। সর্বোপরি ওয়েব ডিজাইন শেখায় এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে ছোট্ট একটি কোর্স করে নিতে হবে। তবে ইচ্ছে করলে আপনি ঘরে বসেও নিজে নিজে শিখতে পারেন। এখন বাংলায় ওয়েব ডিজাইন শেখার অনেক বই রয়েছে। ভিডিও টিউটোরিয়াল সিডি পাওয়া যায় কিনতে। ঘরে বসে ধৈর্য্যসহকারে কাজ করলে মোটামুটি তিন মাসের মধ্যেই আপনি একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন।

শিখতে হবে আরও… ?**

এইচটিএমএল : প্রাথমিকভাবে এইচটিএমএল সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে। নাহলে ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট করতে আপনার সমস্যা হবে।

সিএসএস : সিএসএস বা Cascading Style Sheet সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। কারণ ওয়েব ডিজাইনের বেশিরভাগ কাজ-ই এই সিএসএস নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং এর গুরুত্ব বুঝতেই পারছেন।

এডোবি ফটোশপ : একটি ওয়েবসাইটে প্রচুর ইমেজ তথা ছবি থাকে। ওয়েবসাইটকে নান্দনিকময় করে গড়ে তুলতে ইমেজের বিকল্প নেই। আর ইমেজকে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে এডোবি ফটোশপ ভালোভাবে জানা অত্যাবশ্যক। সুতরাং আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তাহলে আপনাকে এডোবি ফটোশপ শিখতেই হবে।

এডোবি ইলাস্ট্রেটর : এটিও ডিজাইন করার একটি এপ্লিকেশন। ওয়েবসাইটে নিজের স্বপ্নীল সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ইলাস্ট্রেটর ভূমিকা পালন করে।

ফ্ল্যাশ : আপনার ওয়েবসাইটি দৃষ্টিনন্দন ও শ্রুতিমধুর করার জন্য ফ্ল্যাশ ইউজ করতে পারেন। সাধারণত একটি ওয়েবসাইটের হোম পেজের ব্যানারটি ফ্ল্যাশ-এ অনেকে করে থাকে। এতে ওয়েবসাইটটির গুরুত্ব বেড়ে যায় এবং ইউজারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

যেকোনো একটি এডিটর : আপনার ডিজাইনগুলো সব একত্র করে একটি ওয়েবপেজ তৈরি করতে একটি এডিটর প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে সহজলভ্য ও সহজে শিখতে পারবেন এডোবি ড্রিমওয়েভার। ড্রিমওয়েভারের ভিডিও টিউটোরিয়াল সিডি পাওয়া যায়। তাই প্রাথমিকভাবে আপনি এই এডিটরটি ইউজ করতে পারেন।

সাহায্য নিতে পারেন অনলাইন থেকে…

অনলাইন থেকে সাহায্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে http://www.w3schools.com ওয়েবসাইটটি ইউজ করে দেখতে পারেন। আমার ধারণা, আপনার যদি কোনো বই কিংবা ভিডিও টিউটোরিয়াল অথবা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা ডিজাইন সম্পর্কে কোনো ধারণা না-ও থাকে তাহলেও আপনি এই সাইটটি ইউজ করে একজন দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভেলপার হতে পারেন।
এছাড়াও সাহায্য পাবেন গুগল মামা এবং ইউটিউব থেকে।

অন রিকোয়েস্ট: এই লেখাটিসহ আমার যেকোনো লেখায় কোনো ভুল তথ্য বা কোনো ভুল উপস্থাপনা দেখতে পেলে অনুগ্রহ করে আমাকে জানান। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করার পরও ভুল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

ধন্যবাদ। সাথে থাকুন, ভালো থাকুন। 😀

** পরবর্তীতে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে। 🙂

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

_._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._

টি মন্তব্য | আপনিও মন্তব্য লিখুন...

লেখক সম্পর্কে জানুন:

পান্থ বিহোস

ভবিষ্যতে ফুলটাইম লেখক হিসেবে প্রফেশন তৈরি করার ভাবনায় আপাতত ফুলটাইম ভাবুক। আর পার্টটাইম ওয়ার্কার।

মন্তব্য লিখুন

3 টি মন্তব্য

  • আছি ভাইয়া। আপনার সাথেই আছি। লেখাগুলো বরাবরের মতো ভালোই হচ্ছে। সুন্দর লেখেন আপনি। শুভ কামনা রইলো।। ভালো থাকুন প্রতিক্ষণ। প্রিয় মানুষদের নিয়ে।