ফিচার

হুট করে সিদ্ধান্ত!

লিখেছেন: পান্থ বিহোস

একটা সমস্যা। সমাধান অনেকগুলো হতে পারে। সেখান থেকে বাছাই করে যেকোনো একটা গ্রহণ করতে হবে। যেটা গ্রহণ করবেন সেটাই কিন্তু সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্ত এমনই এক ব্যাপার যার কাছে নাজেহাল হননি এমন কেউ নেই। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নাকানি চুবানি খাননি এরকম

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

একটা সমস্যা। সমাধান অনেকগুলো হতে পারে। সেখান থেকে বাছাই করে যেকোনো একটা গ্রহণ করতে হবে। যেটা গ্রহণ করবেন সেটাই কিন্তু সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্ত এমনই এক ব্যাপার যার কাছে নাজেহাল হননি এমন কেউ নেই। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নাকানি চুবানি খাননি এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।

কখনো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় বেশ সময় নিয়ে। আবার কখনো কখনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় খুব দ্রুত। হয়তো হুট করেই সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড়দের, জানাশোনা ব্যক্তি বা অভিজ্ঞদের সহায়তা পাওয়া যায়, পরামর্শ নেয়া যায়। অনেক জেনেশুনে আর বুঝে-সমঝেই একটা ভালো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। কিন্তু হুট করে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কিন্তু সেই অপশনটা থাকে না। ফলে অনেককে ভাগ্যকে বিশ্বাস করে সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়। অনেকে আবার সেক্ষেত্রে র‌্যান্ডমলি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু আসলেই কি ভাগ্য আর র‌্যান্ডমলি নেয়া সিদ্ধান্ত ভালো হতে পারে? হয়তো সম্ভাবনা আছে কিছু ভালো হওয়ার। কিন্তু এক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই ভুল সিদ্ধান্তটাই সামনে চলে আসে।

অথচ একটু বিচার-বিবেচনা আর কিছু বিষয় জানা থাকলেই কিন্তু হুট করে নেয়া সিদ্ধান্তটা সঠিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব। কীভাবে? কোন্ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত নিলে প্রকৃত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব? চলুন জেনে নেয়া যাক।

হুট করে কেন সিদ্ধান্ত?

শুরুতে জেনে নেয়া যাক কেন আপনার দরকার হলো হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়ার? মানে আপনি কেন ঐ পর্যায়ে চলে গেলেন যে আপনাকে হুট করে সিদ্ধান্ত নিতে হলো? এ ক্ষেত্রে বলা যায় বিভিন্ন কারণে হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেটা আসলে আগে থেকে বলে কয়ে আসে না। তাই সবসময় নিজের ভেতরে একটা প্রস্তুতি রাখতে হবে যে, যেকোনো সময় আমার একটা সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে হুট করে। এরকম প্রস্তুতি যখন আপনার ভেতরে থাকবে তখন আপনি কিছু বাড়তি ভাবনা ভেবে রাখবেন সেই সময়ে কি কি করা লাগতে পারে? আবার অনেকে আগে থেকেই জানেন ঐ সময় তার হুট করে ঐ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া লাগতে পারে। তাই উনি ঐ সময়ের জন্য ঐ বিষয়ে আগে থেকেই ভেবেচিন্তে মোটামুটি দু একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন যে এই হলে এই করবো, ওই হলে ঐ করবো। সুতরাং নিজের মধ্যে রাখুন প্রস্তুতি।

করুন মোকাবেলা…

হ্যাঁ, এবার ধরুন চলে এলো সেই অনাকাঙ্খিত মুহূর্ত যখন আপনার নেয়া লাগবে চরম সেই সিদ্ধান্ত এবং সেটা হুট করেই। তাহলে কীভাবে মোকাবেলা করবেন? শুরুতেই দেখুন যা যা ভেবে রেখেছিলেন তার সাথে কতটা কমন পড়ছে আপনার আগে থেকেই বাছাই করে রাখা সেমি সিদ্ধান্তগুলো। যদি দেখেন মোটামুটি মিলছে তাহলে যেকোনো একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু যদি দেখেন আগে থেকে ভাবনা করে রাখার সাথে কিছুই মিলছে না, তাহলে ঘাবড়াবেন না মোটেও। নতুন করে ভাবতে থাকুন দ্রুত উদ্ভুত উপকরণগুলোকে কাজে লাগিয়ে। কি কি উপকরণ আছে আপনার কাছে? দেখুন এই ব্যাপারগুলো-

  1. চিন্তাশক্তি: চিন্তাশক্তি খুব বড় একটা ব্যাপার। অনেকে দেখা যায় সামান্য একটু ব্যাপার হলেই নিজেকে সম্পূর্ণ এলোমেলো করে ফেলেন। কি ভাববেন আর কি ভাববেন না তা যেন বুঝতে পারেন না আর। অথচ একটু ধীরস্থিরভাবে নিজের চিন্তাশক্তিকে শাণিত করলেই নিজের মাথা থেকেই সুন্দর একটা সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসতে বাধ্য।
  2. বুদ্ধি ও আবেগ: বুদ্ধি ও আবেগ পরস্পর বিরোধী। নিজের বিবেক-বুদ্ধি-চিন্তা সবকিছুকেই নষ্ট করে দিতে পারে আবেগ। খেয়াল রাখুন- নিজের মাঝে আবেগ থাকা ভালো কিন্তু সেই আবেগ যেন আপনাকে বিধ্বংসী হয়ে না পড়ে সেদিকে অবশ্যই অবশ্যই নজর দেয়া আবশ্যক। হুট করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় চেষ্টা করবেন যতোটা সম্ভব নিজের আবেগকে দমন করতে। সম্ভব হলে এই সময়ে আবেগকে পাত্তা না দেয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম। এতে করে নিজের বুদ্ধি আর চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে খুবই সুন্দর এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনি।
  3. প্রশ্নের উত্তর: কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেটা নিজেকে বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে প্রশ্ন করুন। চেষ্টা করুন সমস্যাটার ব্যাপারে যতোগুলো সম্ভব প্রশ্ন তৈরি করতে। এবং নিজের কাছে নিজে সৎ থেকে সেসব প্রশ্নগুলো উত্তর খুঁজুন। উত্তরগুলো পরস্পরের সাথে তুলনা করুন। টেবিল আকারে নিজের মাথার ভেতরে সাজিয়ে চার্ট তৈরি করুন। এভাবে যতো বেশি প্রশ্ন এবং প্রশ্নের উত্তর তৈরি করতে পারবেন আপনার উদ্ভুত সমস্যাটা ততই শাণিত হবে। সঠিক সিদ্ধান্তের ততই কাছে পৌঁছুতে পারবেন।
  4. পরামর্শ: এখন তো ডিজিটাল যুগ। চাইলেই আপনার কাঙ্খিত ব্যক্তির সাথে সেলফোনে কথা বলে নিতে পারেন। ফলে আপনি এতোক্ষণ যা ভাবলেন সেগুলোর ব্যাপারে আরও স্থির সিদ্ধান্তে আসার জন্য অন্য একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ আপনার অনেক কাজে দেবে। মোবাইলে দুই তিন মিনিট কথা বলে দেখতে পারেন। সম্ভব হলে একাধিকজনের সাথেও কথা বলতে পারেন। যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
  5. লক্ষ্য স্থির: চিন্তা-ভাবনা, পরামর্শ, আবেগ দমন সবই হলো। এবার একটা লক্ষ্য স্থির করে ফেলুন যে, আপনি ঐ দিকেই যাবেন। এটা যখন করে ফেলবেন, দেখবেন ঐ দিকের সমস্যাগুলো এখন আপনার সামনে ভেসে আসবে। তেমনি সুবিধাগুলোও আপনি দেখতে পারবেন। সুতরাং যখন উপরের চারটি স্তর পার করবেন তখন অনায়াসে আপনি আপনার লক্ষ্য স্থির করতে পারবেন। লক্ষ্য স্থির করে এখন পরবর্তী ধাপে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে।
  6. বিকল্প রাস্তা: যখন আপনি আপনার লক্ষ্যটা স্থির করবেন তখন একটা বা দুটো বিকল্প রাস্তাও আপনাকে খুঁজে রাখতে হবে। যা চূড়ান্ত সময়ে আপনার কাজে লাগতে পারে। হয়তো দেখা যাবে লক্ষ্য স্থির করেছেন যা তা মোটেই কাজে লাগলো না বরং যেটা বিকল্প রেখেছেন সেটাই প্রকৃত সঠিক সিদ্ধান্ত। তাই সবকিছুর পাশাপাশি এই বিকল্পও দরকারি।
  7. বাস্তবায়ন: সবশেষে আপনাকে আপনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ফলে সঠিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আপনার বিকল্পও কিন্তু থাকছে। যা আপনাকে আপনার সঠিক সিদ্ধান্তকে পাকাপোক্ত করতে বদ্ধপরিকর।

সবশেষে…

এভাবে বিষয়গুলো ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে দেখবেন, সিদ্ধান্ত হুট করেই নিয়েছেন কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রকৃত ভালো সিদ্ধান্ত। নিজের মাঝে অবশ্যই আবেগ লালন করতে হয়। কিন্তু আবেগ তাড়িত হয়ে কিছু করা যায় না। যদিও তারুণ্যের বয়স কিংবা পরিণত বয়সেও অনেককে অনেক কাঁচা সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়। আপনার মাঝে আবেগমুক্ত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তৈরি হোক। সবসময় শুভকামনা।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

_._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._

টি মন্তব্য | আপনিও মন্তব্য লিখুন...

লেখক সম্পর্কে জানুন:

পান্থ বিহোস

ভবিষ্যতে ফুলটাইম লেখক হিসেবে প্রফেশন তৈরি করার ভাবনায় আপাতত ফুলটাইম ভাবুক। আর পার্টটাইম ওয়ার্কার।