ফিচার

তারুণ্যের স্বপ্নের চাওয়া কলসেন্টার জব

লিখেছেন: পান্থ বিহোস

বর্তমান সময়ের তরুণদের স্বপ্নের আকাঙ্খা কলসেন্টারের চাকরি। বিশেষ করে যখন স্নাতক শেষ হওয়ার আগেও এই চাকরিটা করা যায় এবং একটা সম্মানজনক মাসোয়ারা মেলে তখন কেনই বা এই চাকরির প্রতি আগ্রহ জন্মাবে না? স্মার্ট পরিবেশ, নিত্য নতুন মানুষের সাথে মেশা, হরেক রকম ধারণা আর কাজের ভেতর এতো বৈচিত্র্য কোথায় পাওয়া যাবে? বাড়তি পাওনা হিসেবে ভবিষ্যতে যেকোনো কর্পোরেট চাকরিতে জয়েন করার সময় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখানো যায় এই জবের অতীত ইতিহাস।

এই দিকগুলো বিবেচনা করে বিশেষ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া তরুণ-তরুণীদের কাছে কলসেন্টার জবের চাহিদা বেড়েই চলেছে। ফুলটাইম জব করার চেয়ে তারা পার্টটাইম জব করে নিজের পকেট মানি নিজেরাই ম্যানেজ করে নিচ্ছে। টিউশনি করানোর চেয়ে এই জবটা বেশি সম্মানজনক এবং কম পরিশ্রম মনে হয় অনেকের কাছে। তাছাড়া কর্পোরেট অফিসে জব করার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় এই জবের মাধ্যমে। এসব বিবেচনায় কলসেন্টারের জব বাড়তি কিছুর দাবিদার তরুণদের কাছে।

কোথায় হবে জব?

বাংলাদেশ এসোশিয়েশন অব কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং-এর নিবন্ধিত কলসেন্টারের সংখ্যা এখন বাংলাদেশে ৬০টির মতো যদিও বিটিআরসির নিবন্ধিত কলসেন্টার বাংলাদেশে ৮০টিরও বেশি। এগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে গ্রাহকসেবা দিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশে বসে বিদেশী কোম্পানীর বিদেশী গ্রাহকদের সেবাও দিয়ে থাকে বাংলাদেশী কলসেন্টার। এবং এগুলোর চাহিদাই বেশি জব হান্টারদের কাছে। কেননা, তুলনামূলক সেসব কলসেন্টারেই সেলারির পরিমাণ বেশি, সপ্তাহে দু’দিন ছুটি পাওয়া যায় ইত্যাদি।

কারা যোগ্য কলসেন্টারে?

কলসেন্টারে স্নাতক না করেও জব করার যায়। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কলসেন্টার জবের পদগুলোর জন্য কর্তৃপক্ষ স্নাতক পড়–য়াদেরই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। যেহেতু এখানে পার্ট টাইম এবং ফুলটাইম দু’ভাবেই কাজ করা যায় তাই আগ্রহী যে কেউই এখানে সহজেই ইন করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে কলসেন্টারে জব করতে আগ্রহীদের যে বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে সেগুলো হচ্ছে- সুন্দর, শুদ্ধ ও সাবলীলভাবে কথা বলা জানতে হবে, ধৈর্য্যসহকারে মানুষের কথা শোনার যোগ্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, উদ্ভুত পরিস্থিতি সহজে মোকাবেলা করার মানসিকতাও জরুরি। ইংরেজিটা জানা থাকলে ভালো তবে বিদেশী কলসেন্টারগুলোতে জব করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ইংরেজিতে পারদর্শী হতে হবে।

এছাড়াও আপনাকে হতে হবে বিনয়ী, কাজের প্রতি একাগ্রতা, ইতিবাচক মানসিকতা, চট করে রেগে না যাওয়ার প্রবণতা, ধৈর্য্যসহকারে কোনো কিছু বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতা, নিষ্ঠা ইত্যাদি। মোট কথা হলো- গ্রাহক যখন আপনাকে কল করবে তখন সে কিছু জানার আশাতেই কল করবে। বিষয়টা তাকে যত সুন্দর করে বুঝিয়ে দেবেন কাস্টমার ততই হ্যাপি হবে। আর কাস্টমার হ্যাপি হলে আপনার যোগ্যতা পজেটিভ আর প্রমোশন বাড়বে।

এছাড়াও কম্পিউটার চালনা এবং অনলাইন সম্পর্কে আপনার সম্যক ধারণা থাকতে হবে। তবে আইটি প্রফেশনাল না হলে কলসেন্টারে জব করা যায় না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করেও কলসেন্টারে জব করা যায়।

একটি আধুনিক কলসেন্টারের গঠন

একটি আধুনিক কলসেন্টারের গঠন

কাজের ধরণ?

কলসেন্টার দু’রকম- ইনবাউন্ড কলসেন্টার এবং আউটবাউন্ড কলসেন্টার। বাংলাদেশে ইনবাউন্ড কলসেন্টারই পপুলার এবং এরকম কলসেন্টারের সংখ্যাই বেশি। ইনবাউন্ড কলসেন্টার হলো- গ্রাহক একটা সার্ভিস বা প্রোডাক্ট নিয়েছেন এখন সেই সার্ভিস বা প্রোডাক্টের কোনো প্রবলেম সলভ পাওয়ার জন্য কলসেন্টারে নিজে থেকে কল করছে। আর আউটবাউন্ড কলসেন্টার হলো- কোনো সার্ভিস বা প্রোডাক্ট বিক্রয় করার জন্য গ্রাহকের নাম্বার সংগ্রহ করে সেই নাম্বারে ফোন করে গ্রাহককে সেটা অবহিত করা।

দু’রকম কলসেন্টারই সমান জনপ্রিয় এবং কাজের ক্ষেত্র যেমন দিন দিন বাড়ছে তেমনি কাজের ধরণেও বৈচিত্র্যতা আসছে প্রতিনিয়ত।

কীভাবে নিয়োগ পাবেন?

অন্যান্য চাকরির চেয়ে কলসেন্টারে জবে নিয়োগ পাওয়া সহজ। সাধারণত কলসেন্টার সমূহ তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। এছাড়াও জব পোর্টালগুলোতে নিয়মিতই কলসেন্টার জবের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থাকে। ওখান থেকে দেখে নিয়ে সিভি প্রেরণ করতে হয় ইমেইলে। প্রাথমিকভাবে আপনার সিভি পছন্দ হলে সরাসরি ইন্টারভিউর জন্য কল করা হয়। ইন্টারভিউতে আপনার ভয়েস, কথা বলার স্টাইল, উচ্চারণ, ইতিবাচক দিকগুলো দেখা হয়। এগুলোতে উৎরে যেতে পারলেই নিয়োগ পাবেন নিশ্চিত।

ইন্টারভিউর জন্য টিপস হলো- কথা বলবেন ধীরে-সুস্থ্যে গুছিয়ে। তাড়াহুড়ো করবেন না। যা জানতে চায় সরাসরি উত্তর দেবেন। কথা প্যাচাবেন না অযথা। আপনার উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রবণতা বুঝতে হয়তো কোনো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করতে বলবে। ঘাবড়ে না গিয়ে আপনি আপনার উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিন। কিংবা বলবেন, সেক্ষেত্রে আমি কোম্পানীর রোলসের প্রতি বিবেচনা করে উত্তর দেবো।

কল সেন্টারে বেতন-ভাতা

কলসেন্টারে দুইভাবে কাজ করা যায়- পার্টটাইম এবং ফুল টাইম। পার্ট টাইম জবসমূহ ৪-৫ ঘণ্টার এবং ফুলটাইম জবের ক্ষেত্রে ৮-৯ ঘণ্টা অফিস টাইম। সপ্তাহে একদিন ছুটি কোথাও বা দু’দিন। পার্ট টাইম জবের ক্ষেত্রে ১০-১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন মেলে এন্ট্রি লেভেলে আর ফুলটাইম জব হলে সেটা হয় ২০-২৫ হাজার টাকা।

তবে যেসব কলসেন্টার বিদেশী মালিকানার এবং বিদেশী সার্ভিস প্রোভাইড করে, তুলনামূলক তাদের বেতন-ভাতা বেশি। পরিবহন সুবিধাও মেলে। অবশ্য সবই প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীল।

কেন কলসেন্টার জব?

স্মার্ট অফিস, কাজের সুন্দর পরিবেশ। সহজে জব মেলে। বেতন-ভাতা ভালো। অন্যান্য অফিসের মতো সময় বেশি দিতে হয় না অফিসে। ঘড়ির কাটা ধরে অফিস করলেই চলে। নিত্য নতুন মানুষের সাথে কথা বলা যায় বলে কাজের ভেতর একঘেয়েমি নেই। ফলে মনের আনন্দে কাজ করা যায়। কোনো কোনো কলসেন্টার রাতের বেলাও কাজ করা যায়। ছাত্ররাও সহজে এখানে জব করতে পারেন।

কলসেন্টার এরকম হাজারো কারণে তরুণদের পছন্দ। এছাড়াও নিজের ভিত্তি তৈরি করার জন্য কলসেন্টারের চেয়ে ভালো ক্ষেত্র আর হয় না। সুতরাং নিজের উচ্চাকাঙ্খার প্রাথমিক সোপান হিসেবে কলসেন্টারের সুন্দর জবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন নির্ভাবনায়।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

_._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._

টি মন্তব্য | আপনিও মন্তব্য লিখুন...

লেখক সম্পর্কে জানুন:

পান্থ বিহোস

ভবিষ্যতে ফুলটাইম লেখক হিসেবে প্রফেশন তৈরি করার ভাবনায় আপাতত ফুলটাইম ভাবুক। আর পার্টটাইম ওয়ার্কার।