ফিচার

বেড়ে ওঠে স্মৃতির চারাগাছ

Pantho_Bihosh_Writing_Feature
লিখেছেন: পান্থ বিহোস

অতীতকে যে ভুলে যায় সে নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আবার যে অতীকে আকড়ে ধরে পড়ে থাকে সেও কিন্তু জীবনে তেমন একটা সাফল্যের মুখ দেখতে পারে না। ব্যাপারটা কি পারস্পরিক সাংঘর্ষিক? মোটেও নয় তা। একটা ব্যাপার হলো- আপনি জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে, অভিজ্ঞতা অর্জন করে সামনে এগুচ্ছেন না। আর অন্যটা হলো- আপনি যে ভুল করেছেন সেটা নিয়ে আফসোস করেই জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন। সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা আর ভাবছেন না। বুঝতে পারা গেলো ব্যাপারটা?

সুতরাং অতীতকে কখনোই ভুলে যাবেন না এবং অতীতকে মনে রাখার জন্য শুধু অতীত নিয়েই পড়ে থাকবেন না- এই যদি হয় আপনার জীবনের মটো; তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায় আপনি একজন বাস্তববাদী লোক। আর সফলতা বাস্তববাদী মানুষের ধরা ছোঁয়ার ভেতরেই সবসময় বিরাজমান থাকে। এ তো আমরা সবাই জানি?

অতীতের স্পর্শকাতর স্মৃতি

প্রতিটা মানুষের জীবনেই অতীত থাকে। কিছু অতীত আছে যা কখনোই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়- দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায় আজীবন। আর কিছু স্মৃতি মধুর- মনে হওয়ার সাথে সাথেই আনন্দের দোল খেলে যায় হৃদয়-মন-মগজে। কিছু স্মৃতি নিজের ভুল সিদ্ধান্তের আবার কিছু স্মৃতি নিজের সফলতার। ভালো-মন্দ আর জয়-পরাজয়ের স্মৃতি প্রায় প্রতিটা মানুষেরই। কারও ভুলের স্মৃতি সাইকেলের মতো আবদ্ধ হয়ে বারবার আসে আবার কারও ভুল একবারই। যখনই মানুষ পুনরায় ভুল করে বা সফলতা পায় তখন অতীত মনে পড়ে যায় দ্রুত। কেননা স্মৃতিগুলো আমাদের মগজের কোষেই সুন্দর করে সাজানো থাকে আজীবন। সিমিলারিটি কোনো ঘটনা ঘটলেই আগের স্মৃতিটা টেনে নিয়ে আসে নিজের চোখের সামনে। যদি স্মৃতিগুলো হয় স্মর্শকাতর তাহলে তো কথাই নেই। আপনাকে আজীবন কুড়ে কুড়ে শেষ করার জন্য বসে থাকবে মগজের বিন্দুতে।

স্মৃতি কেন বেড়ে উঠবে?

আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া এমন অনেক স্মৃতি পাবেন যা ভাবলে এখন নিজের মধ্যে ইন্সপায়ার পান অটোমেটিক্যালি। যেমন ধরুন- পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়া, চাকরি পাওয়ার আনন্দ। জন্মদিনে অতি আকাঙ্খিত গিফটটি বাবা-মার কাছ থেকে পাওয়া। পরিবারের সাথে কাটানো ছোট ছোট নিজস্ব কিছু আনন্দ; যা আপনার আজীবনই মনে পড়বে। যখনই ভাবনার সাগরে ডুব দেবেন তখনই আপনাকে আবেগতাড়িত করবে, উদ্বুদ্ধ করবে সেই ভাবনাগুলো। কীভাবে?

ধরুন স্কুল লাইফে পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়েছিলেন আপনি। কিংবা প্রাথমিক বৃত্তি বা জুনিয়র পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়ে আনন্দ পেয়েছিলেন। এখন বড় হয়ে যখন দেখলেন- একটা কাজ বার বার করে যাচ্ছেন কিন্তু সফলতা আসছে না; তখন পেছনের সেই স্মৃতিটা নিজের মগজ থেকে বের করে আনুন। দেখবেন আপনি তা থেকে আনন্দ পাচ্ছেন, ইন্সপায়ার হচ্ছেন। বর্তমানের ব্যর্থতার কাজটায় সফলতা ঠিকই নিয়ে আসতে পারছেন। অর্থাৎ ছোটবেলার একটা আনন্দদায়ক স্মৃতি আপনার বর্তমান অবস্থার সমস্যাটাকে ফেস করছে এবং আপনাকে পজেটিভ হয়ে সফলতা পেতে সহায়তা করছে। এটাকে কি আপনি বড় করে দেখবেন না? তাহলে কি বলবেন না, স্মৃতি ধরে রাখার মধ্যে প্রয়োজন বিদ্যমান? হ্যাঁ, বলতেই হবে।

আবার খেয়াল করলে দেখবেন- কিছু স্মৃতি আছে, যা মনে হওয়ার সাথে সাথে আপনি নিজের কাজে অনুৎসাহিত বোধ করবেন। সুতরাং অতীত বা স্মৃতি বাছাই করতে হবে চিন্তা-ভাবনা করে। পজেটিভ স্মৃতিগুলো নিজের মধ্যে চর্চা করবেন- অর্থাৎ, পজেটিভ ভাবনাগুলো বা স্মৃতিগুলো নিজের মধ্যে মনে করার চেষ্টা করবেন প্রায়ই। দেখবেন- লাইফের যেকোনো সমস্যাই আর সমস্যা থাকবে না।

স্মৃতি হোক পজেটিভ

আপনি যে স্মৃতিটাকে লালন করতে চান নিজের মধ্যে সেটা অবশ্যই হতে হবে পজেটিভ। যদিও এটা বাছাই করা কষ্টকরই। তাই এখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিন- যা করবেন তা সাচ্চা করবেন। কেননা, এখনটাই এক সময় তখন হয়ে যাবে; মানে অতীত হবে, স্মৃতি হবে। সুতরাং যা কিছু করছেন ভাবনা-চিন্তা করেই করুন। অযথা উল্টাপাল্টা কিছু করে নিজের স্মৃতিকে ভারী করে তুলবেন না।

নিজের জীবনের ছোট ছোট সফলতার কথাগুলো নিজের মন থেকে বের করে আনুন টেনে। তারপর সেগুলো ভাবুন কীভাবে সম্ভব হয়েছিলো আপনার জীবনে? এই ছোট ছোট সফলতার হাত ধরেই কিন্তু বড় বড় সফলতা ধরা দেয় একটা মানুষের জীবনে- “ছোট ছোট বালুকনা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মহাদেশ সাগর অতল।”

সুতরাং ছোট ছোট পজেটিভ কাজগুলোই সবসময় নিজের ভাবনার মধ্যে জাগ্রত রাখার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনি একজন পজেটিভ চিন্তার মানুষ হবেন। নিজেকে হ্যাঁ বলুন। দেখবেন যে কাজেই হাত দিচ্ছেন- হ্যাঁ, হয়ে যাচ্ছে। আর একবার যখন এটার মজা পেয়ে যাবেন দেখবেন আপনার কোনো সিদ্ধান্তেই আর আপনি পিছপা হচ্ছেন না, মানে হেরে যাচ্ছেন না। যা কিছুই সিদ্ধান্ত নিয়ে করতে চান, সফল হচ্ছেন। এভাবেই আপনার মাঝে একটা আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি হবে। জীবনে সফলতা পেতে হলে যা খুবই প্রয়োজনীয়। একটা মানুষ এই আত্মবিশ্বাসটা নিজের মধ্যে সৃষ্টি করতেই জীবনের বেশিরভাগ সময়টা পার করে ফেলেন। কিন্তু দেখুন কত সহজেই স্মৃতির পাতাগুলো সাজিয়ে নিয়ে আপনি জীবনকে সুন্দর, সাবলীল আর সাফল্যম-িত করে তুলতে পারবেন।

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই…

হয়তো যেভাবে উপরে বলা হয়েছে সেভাবে নিজের পজেটিভ স্মৃতিগুলো একসাথে করতে বার বারই হোঁচট খাচ্ছেন আপনি। কিন্তু তবুও নিজেকে তুলে ধরতে চাচ্ছেন; চাইতেই হবে! হ্যাঁ, এটাই স্বাভাবিক। কোনো সফলতাই সহজে আসে না। তবে নিজের অভিজ্ঞতা আর অতীত স্মৃতি কাজে লাগিয়ে ব্যাপারটাকে সহজ করে তোলা যায়। সুতরাং মাঝে মাঝে পারেন পজেটিভ স্মৃতি কাজে লাগাতে আবার মাঝে মাঝে পারেন না দেখে হতাশ হবেন না। নেগেটিভ হবেন না তাতে। বি পজেটিভ অলওয়েজ। সফলতা আপনার কাছে ধরা দিতে বদ্ধ পরিকর!

শেষ কথা

নিজের ভেতরের অই স্মৃতিগুলোই সামনে তুলে আনুন যা থেকে আপনি নিজে আনন্দিত হয়ে থাকেন, স্বস্তি বোধ করেন। দেখবেন সফলতা আপনার মাঝেই চলে আসছে। কেননা, আপনি যখন আনন্দিত থাকবেন দেখবেন আপনার দ্বারাই অনেক না পারা কাজ সহজেই সফলতার সাথে সম্পাদন হচ্ছে। ব্যাপারটা যেমন আনন্দের তেমনি স্মৃতিতে পজেটিভ ভাবনা যোগ হওয়ার আরও একটি ব্যাপার।

হ্যাঁ, জীবন হোক আরও সুন্দর, আরও ভালোবাসাময়।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

_._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._._

টি মন্তব্য | আপনিও মন্তব্য লিখুন...

লেখক সম্পর্কে জানুন:

পান্থ বিহোস

ভবিষ্যতে ফুলটাইম লেখক হিসেবে প্রফেশন তৈরি করার ভাবনায় আপাতত ফুলটাইম ভাবুক। আর পার্টটাইম ওয়ার্কার।